মূলত ভোজ্যতেল ও দানাদার খাদ্যের দাম বাড়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলমান অস্থিরতা এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পণ্যমূল্যের ওপর। খবর রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি ও হেলেনিক শিপিং নিউজ।
আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের মাসিক দামের পরিবর্তন নজরে রাখে এফএও ফুড প্রাইস ইনডেক্স বা খাদ্যমূল্য সূচক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিলে এ সূচকের গড় ছিল ১৩০ দশমিক ৭ পয়েন্ট, যা মার্চের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমান দাম প্রায় ২ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কৃষি খাতের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার ফলে পণ্যবাহী জাহাজের যাতায়াত ব্যাহত হওয়াও দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।
বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্যের মধ্যে এপ্রিলে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। এফএওর তথ্যানুযায়ী, ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক মার্চের তুলনায় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর এটিই ভোজ্যতেলের সর্বোচ্চ দাম। পাম তেল, সয়াবিন, সূর্যমুখী ও সরিষার তেলের সরবরাহ সংকট এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চড়া দামের কারণে ভোজ্যতেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। এছাড়া জৈব জ্বালানি বা বায়োফুয়েলের চাহিদা বাড়ায়ও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
তেলের পাশাপাশি চাল ও গমের দামও গত মাসে বেড়েছে। দানাদার খাদ্যের মূল্যসূচক বেড়েছে দশমিক ৮ শতাংশ। চালের ক্ষেত্রে এ বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৯ শতাংশ। সংস্থাটি বলছে, তেল ও সারের দাম বাড়লে উৎপাদনকারী দেশগুলোয় চাষাবাদ ও বিপণন খরচ বেড়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এদিকে মাংসের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত বছরের তুলনায় মাংসের দাম গড়ে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে, যা এ-যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।
কিছুক্ষেত্রে স্বস্তির খবরও দিয়েছে এফএও। এপ্রিলে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম ১ দশমিক ১ ও চিনির দাম ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। বিশ্বজুড়ে চিনির ভালো ফলন ও পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় এর দাম কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এফএও ২০২৫ সালের জন্য শস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৩০৪ কোটি টন নির্ধারণ করেছে। তবে প্রতিকূল পরিবেশে চলতি বছর গম উৎপাদন কিছুটা কম হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, ‘বৈশ্বিক খাদ্যসরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী থাকলেও হরমুজ প্রণালির সংকটের দিকে কড়া নজর রাখা প্রয়োজন।’